কবি স্বপ্নীল চক্রবর্ত্তীর তিনটি কবিতা




১।

নারীদের বেপোরোয়া জুয়া খেলা, এটা ওটা বাজি রাখা আর পুরুষের অর্থকষ্টের মাঝখানে কুকুরের জিভের মতো ঝুলে আছে আমাদের সৌখিন নিঃসঙ্গতা। 
ডিমলাইটের আলোয় কারা যেনো টিকটিকির কায়দায় পরস্পরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শরীরী কথোপকথনে সামিল হবে বলে। 
চোখে নয়, ঠোঁটে আরেকটু বেশি দৃশ্যমান হয় 
লুকোনো ক্ষতের চিহ্ন,  
পায়ের পাতায় চুমু খেলে যদি নারী কেঁপে ওঠে, পুরুষেরা মনে মনে হিটলার হয়ে যায়- 
তারপর যুদ্ধ, হত্যা, শান্তিপতাকা, ঘুম এবং নির্জনতায় 
দীর্ঘ কোনো ছায়া ঘনিয়ে আসে। বাতাসে ভেসে যায় নিজেদের বাউল মনের নৈশভ্রমণ। 

শাড়ি খোলার আগুন জানালো অস্থিরতায় 
লোভ, ঘৃণা, প্রেম আর লালসায় এভাবেই - 
সুফিগানের করুন সুরের রাত নেমে আসে।



২।

মুখের ওপর কাপড় নেই এমনই কোনো মৃত মানুষের মতো ঠান্ডা হয়ে থাকি এইসব চৈত্রের রাতে 
পুরোনো কোনো দুঃখের কথা আমার মনে নেই 
আমার জানা নেই সার্কাসে দাঁড় করিয়ে দেয়া হলে কি করে হাসাবো 
উৎসুক নারীদের বুকে কাঁপন ধরানো যাবে কোন সে বিচিত্র নিষ্ঠুরতায়। 
তোমার হারিয়ে যাওয়ার মতো অনবরত দুর্যোগ নেমে আসে আমার ভয় লাগে, ক্রমশ কুজো হতে থাকি কুয়োর ব্যাঙের মত জানি না লাফ দেয়ার টেকনিক- 
আমার পা ব্লেইড দিয়ে কেটে দিয়েছে আমার নিজের আত্মাভিমান। 
আমার গায়ে তেমন কোনো শক্তি নেই আকস্মিক এ্যালার্মে উঠে বসার। 
তবু এখনো, আমাকে ফেলে রেখে মানুষ চলে যেতে পারে। 
আমার অসম্ভব ক্ষুধায় আমার পাশে বসে মানুষ মনোযোগে ভাত খেতে পারে। 



৩।

মেয়েরা যেভাবে চুল বাঁধে, সেভাবেই বিপদ এসে দিনরাত ধাক্কা দেয় আর বলে
প্রয়োজনহীন এই জীবন নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যেতে- 
যেখানে এখনো শীত মাঝরাতে শাড়ি পরে দীর্ঘ বিরহ শেখায়। 
পড়াশোনা ভালোলাগে না, ভালোলাগে ভাঙনের শব্দ 
ইতিউতি না খুঁজে সমুদ্র অথবা সামুদ্রিক নারীর মুখের দিকে তাকিয়ে নিশাবসান। 
অথচ সমুদ্রে যেতে টাকা লাগে, কয়েকটা কবিতা যদি অনেক টাকায় বিক্রি করে দিতে পারতাম, যাওয়া যেত। 

যাকে দেখতে পাব না কোনোদিন, তার কথা ভেবে ভেবে যতোটুকু যাওয়া যায়, তারচেয়ে আরো দূরে অন্ধের দেশ আছে এক- 
সেইখানে ভালোবাসা, বাচ্চাছেলের মত কাঁদে
সেইখানে বিয়ে হয় বেশ্যা এবং দালালের
সেইখানে উৎসব হয় শ্রমিকের বেতন থেকে কেটে রাখা টাকায়। 

অভিশাপের আরেক নাম স্মৃতি, একথা অকপটে স্বীকার করে যদি কোনো ব্যবসায়ীর ঠোঁটে চুমু খেতে পারো আমি প্রতিরাতে মৃত্যু থেকে ফিরে এসে 
নরকের জীবন কাটাতে রাজী আছি।

আমার ক্যাপিটালিস্ট হৃদয়ের মাংস চমৎকার সুস্বাদু - 
শূন্যতা একটা চায়ের চামচের মতো 
আর দেরী কিসের? তুলে নাও সবচাইতে সুন্দর টুকরোটা - 
খেয়ে দেখো যাবতীয় উৎসর্গ এবং প্রত্যাখ্যান। 
তোমার প্রতিটি ঢেকুরে আলাদা আলাদা সূর্যাস্ত হবে পৃথিবীর বিভিন্ন বেলাভূমিতে, 
তোমার প্রতিটি কামড়ে সংস্কার করা হবে প্রাচীন বিচারব্যবস্থা, আলাদা হবে শরীর আর মন, তোমার আমার।




 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ