মিসবাহ জামিলের কয়েকটি কবিতা


 
জ্বালা না বাড়াই

যতটুকু আছে ততটুকু নিয়েই থাকি
আর কিছু লাগবে না, কেউ লাগবে না
আমার বান্ধা জলাশয়ে আর
ঢেউ লাগবে না, ঢেউ লাগবে না।
হাওরের মাঝে আমি জলাশয় বেঁধেছি
চারদিকে শক্ত আল দিয়ে
আল চুইয়ে চুইয়ে পানি ঢুকে যায়
জিগ্যেস করে না বাল দিয়েও!
আমি দুঃখ সরাতে পারি না
দুঃখের উজানে আমি গড়াতে পারি না
নিজেকে বলি, বাড়িতে যাও বাবা 
হাওরের মাঝে আর জ্বালা না বাড়াই
কইমাছের মতো কাঁটার জোরে
কত নারী চলে গেছে কারণ ছাড়াই!


দূরে দূরে বন্ধুরে

পুরনো বন্ধুর কথা মনে পড়লে
মন আতারে-পাতারে যায়
যেন খালি মাঠে পড়ে থাকা গাছের খাড়ি 
বানের জল পেয়েছে—
এইমতো চলছে মন
এদিক ওদিক ধাক্কা খাচ্ছে 
আবার চলে যাচ্ছে দূরে দূরে
যেন খুঁজে নেবে বন্ধুরে
এমন আকাঙ্ক্ষা তাকে
কামড়ে করেছে 
আকাঙ্ক্ষার একটি ব্যাঙ পিঠে নিয়ে 
চলছে উদ্দেশ্যবিহীন...


জনমদুখী

কচুপাতার পানির মতো তুমি 
নৃত্যপ্রিয়, নৃত্য জানো ভালো
বাতাস দেখে সুযোগ মোতাবেকই
রঙের সাথে জাদুটাও ঢালো! 
বাতাসসুরত নই সে কথা সাফ
আমিও যে কেবলামুখী লোক
নৃত্য এবং এই ঘরানার কিছু 
আয়ত্তে নাই; নিবৃত্ত চুম্বক। 
একের সাথে এক ছাড়া আর বাকি
সকলকিছুই বাইরে মনোযোগের
আমিই থাকি কেউ থাকে না শেষে
দুঃখ থেকে দুঃখেরা হয় বের।
আমায় ঘিরে রাখে
চেয়েছিলাম বলেই বুঝি এই
দশার পরে দশার দেখা মেলে?
প্রশ্নবোধক হয়তো বা কেউ রয়েছে সামনেই।


এসো, জড়ো করি লাল

বিদ্রোহী মানুষের রক্তে
যে নদী তৈরি হয়
তাতে ফেরাউনের মতো
ডুবে মরবে ঠিকই
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কারিগররা
মানুষ রক্তজলাশয় পার হবে
হজরত মুসার মতো।
এসো, বন্ধু, প্রত্যেকের বিন্দু বিন্দু
রক্ত দিয়ে জড়ো করি লাল,
আমাদের মুক্তির রঙ।
এই রঙে কথা বলবে
গেরাম ও শহরের প্রতিটি দেয়াল।
বন্ধু, আমরা ইতিহাস ঘেঁটে জানি
একসময় দাস কেনাবেচা চলত
পুঁজিবাদ সেটাকে এখনো 
টিকিয়ে রেখেছে কৌশলে
বন্ধু, তুমি সর্বহারা 
তোমার মুদ্রার নাম সাহস
এসো, সাহসের মুদ্রা দিয়ে
আমরা নিজেদের দাসমুক্তি ঘটাই।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ