১.
ভাঁটফুলের আয়ু নিয়ে –
কে দিতে যায় হাওয়ার সাথে পাল্লা ।
নির্মোহ জীবনের দিকে ঝুকে,
গেছে যে –
করুন এই প্রপাতে,
ঝর্নার অশ্রুত স্রোতধারায়
মুছে দিবে তার পাথুরে স্মৃতি।
হেঁটে যাবে ধীর পায়ে,
ব্যাস্ত বনাস্তলির দিকে।
আয়ু ফুরোনো দিন
আর –
ঝাউবনের হাওয়া
গায়ে মেখে।
দেখেছিলাম সেইদিন
তার শাখায় –
একজোড়া মল্লিকা।
সেই থেকে,
ঝড়ের পূর্বাভাসে আর,
তোমার বাড়ির দিকে নয়।
মন চলে যায় ঝাউবনের শাখায়।
মনে পরতে থাকে,
মল্লিকার দেখে আসা
ছটফটে সংসার।
আর –
উষ্ণ ডানার নিচে ছিলো,
তাদের নরম দুটি ছানা।
২.
দরজার পাশে কেউ এসে দাড়ালে,
মনে হয় তুমি এসেছ –
তার পাশেই পাতাঝরা মহুয়ার বন,
আমি যাবোনা তার দিকে,
এই দৃশ্য কল্পনায় আসে।
দুটো বন শালিক
সারাটা দিন জুড়ে ডেকে
যায় বাড়িতে –
উঠনে ছড়ানো
ধান –
মেঘলা আকাশ,
আর, আম্মার ব্যাস্ততা।
কি আশ্চর্য ভাবে যেনো আম্মা
বৃষ্টি নামার আগেই গুছিয়ে ফেলেন
উঠনে ছড়ানো তার সমস্ত ধান
এই দৃশ্য দেখে,
হারানোর দুঃখ নয় –
পুরোটা দিন জুড়ে কুঁড়ে খায় ভাবনা
কেনো যে,
আম্মার থেকে
শিখে নিতে পারিনি
ভেজার আগেই,
গুছিয়ে নেওয়ার সেই
আশ্চর্য কৌশলখানি।
৩.
এতো বিষন্ন লাগে খোদা।
মনে হয় হাঁসের মতো,
ঝেরে ফেলি এই জল।
আর, দুই একটা পালক –
বাতাসে উড়ে তোমার কাছে যাক।
আমার এতো বিষন্ন লাগে –
মনে হয় চিরকাল ;
তোমার বাধ্য হয়ে থাকি।
খোদা, তুমি তো জানো –
আমি যে অদক্ষ ঘোড়া সাওয়ারি,
তাই তো, টানতে পারি নাহ এই লাগাম।
৪.
আমাদের আর কোনো সম্ভাবনা বাকি নেই,
আমি পালাতে চাই –
এই ভাবনা নিয়ে যেখানেই যাই –
দেখি তুমি গন্তব্য হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছো!
দাবানলের আগুনের মতো,
তাড়া করে বেড়াচ্ছো পুরো বনকে।
আর,
আমি বিচ্ছিন্ন হচ্ছি নিজের থেকে।
একা বনে হারিয়ে যাওয়া হরিণ শাবকের মতো
ছুটেই যাচ্ছি দিক – বিদিক।
বলো, এখন হারিয়ে যাওয়া এই আমাকে কে শেখাবে?
সিংহ দেখলে পালানোর পদ্ধতি!
আমাদের আর কোনো সম্ভাবনা বাকি নেই,
আমি পালাতে চাই –
এই ভাবনা নিয়ে যেখানেই যাই –
দেখি তুমি গন্তব্য হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছো!
দাবানলের আগুনের মতো,
তাড়া করে বেড়াচ্ছো পুরো বনকে।
আর,
আমি বিচ্ছিন্ন হচ্ছি নিজের থেকে।
একা বনে হারিয়ে যাওয়া হরিণ শাবকের মতো
ছুটেই যাচ্ছি দিক – বিদিক।
বলো, এখন হারিয়ে যাওয়া এই আমাকে কে শেখাবে?
সিংহ দেখলে পালানোর পদ্ধতি!

0 মন্তব্যসমূহ