মায়াদণ্ড ও অন্যান্য || জাকারিয়া প্রীণন


 

দেবদারু জ্যামেতি

মুর্হূত ফুরায় না এমন ঘড়ির কাটা দেবদারু দৃশ্য—পরে আছে সবুজ ফুলের পোশাক। তীব্র কুশলের বনে সোনালি নিরঞ্জন—জ্বলে উঠে সর্পিল অনামিকায়। এখন পাথরের মৌসুম। জলের উপর ছবি দেখে পাখিরা ঠিক করে যায় পালক। আর জামরুল ফুলগুলি বিষণ্ণ মেঘের ভাঁজ। নিখিল তপসি দূরের জংশনে—পা ডুবিয়ে রাখে পথের সন্ধানে। যেন এই মনোহর টিপের গভীরে—পাখিদের শিস বিরহ মাদল।


মায়াদণ্ড

তোমাকে চুম্বন করতে গেলে প্রাচীন সে বটবৃক্ষের মতো মনে হয়—যে একদা জিওল মাছের ভঙিমা চুরিকরে পেরিয়ে ছিল নদী;—নদী পরম দুঃখ আমার। যেন দুধের বলকে ফুটে আছে সাগুদানা। মুহূর্তে লীন হয় প্রজাপতি—তবু তোমার দিকেই ঝুঁকে আছে সমস্ত উড়াল ভঙিমা। বেলা যায়। আরো আরো ডুমুরের ফুল চোখ মেরে লুকিয়ে যায় হাওয়ায়। আজ সারাক্ষণ বৃষ্টিছিল—তোমাকে চুম্বন করতেই মায়ের মুখের মতো আলো ফুটলো বাগানে।


স্টেথোস্কোপ

বসন্ত চলে গেলে কোকিল তুমি কার কাছে ফিরো? বাতাসে মাতাল হয় ফুলের টগবগ—তারাদের মিছিলে গোধূলি ধূসর মেঘ। আর জন্মান্ধের জানালায় বেনেবউ—টুকরো টুকরো ছড়িয়ে রাখে সিরামিক গানের কোলাহল। সমস্ত গান—এই বেঁচে থাকা সময়—সকলই প্রতারণা। যাকেই তুমি ভালোবাস মানুষ—সে হবে র্দীঘ ছায়ার কাহিনী।


কফিন

কোথায় যেন মরে আছে ছোট পাখির ভাষা—পালকের পিঙ্গল ঝাপটায়—তুমি যাকে ঝরাপাতা মানো; আমি বলি আত্মলিপি—তারা কোথাও কি ঝরেছিল রংধনু সমেত? তোমার শরীর ভর্তি বসন্ত পাখির গান—ডেকে ডেকে অস্থির এই দুপুর বেলা। রুদ্রাক্ষ! যাচ্ছো এই পথ থেকে ঐ পথে—তোমার সমস্ত সম্ভাবনাময় দুঃখ আমাকেও কী ছুঁয়েছিল?—বিস্তারিত রাতের মতো ফুল ঝরে গেলে তার বেদনা আমি বুঝি। বুঝি নীরব থাকার মানে—কালো মেঘের শাড়ি—পাগলের ম্যাজিক বল—লাল—নীল প্যারাডক্স। তবু ভাঙা সে কফিনের সামনে বসে আছি—হাঠাৎ ঘুম ভাংলেই দেখে নিবো বন্ধুর মুখ।
 
মাংশফুলের ঋতু

অন্ধকারে যখন আয়না খুলে রাখে রংধনু বিড়াল—মথুরা বনে ফুটে কথা গুচ্ছের লিলি। ছুড়ে ফেল ভাষার পিণ্ড—সবুজ পাতার বনে খসখসে আলোর ঝিলিক—মূর্ছিত পাখির নাচ দেখায় সমস্ত শীতকাল জুড়ে। পাতাল ঘরে কারা বুনন করে এই মহাজাগতিক ঘুড়ি? মাংশফুলের ঋতু—কেটে রাখে যেই সব হীরার আঙুল—তারা ঘুমন্ত পৃথিবীর সেই সব পাখিদল—যারা তানপুরা বাজায় পশমি বর্ণমালায়। এই যতিচিহ্ন মেঘ—চিন্তাশীল গাধার রনক। বরং আত্মাকে প্রশ্ন করো—জমজ ফুলের ত্বকে কী এমন ইশারা গন্ধ।




জাকারিয়া প্রীণন
জন্ম: ১৫ জুন, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত বই:
কুম্ভ ও বিহঙ্গ মৌরিন (কবিতা)
কবির সোনালি অন্ধকার (প্রবন্ধ)
পুরস্কার:
ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সহিত্য পুরস্কার ২০২৪



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. কবিতা গুলে সুন্দর, লেখার ধারা ঠিক আছে সবগুলো কবিতা থেকে কফিন কবিতাটা বেশি ভালো লাগছে।

    উত্তরমুছুন