স্মৃতিফলক
তোমাকে কেউ ডাকেনি, তবু তুমি ফিরে এলে।
সন্ধ্যাবেলা ভিজতে থাকা বারান্দায়
হয়তো কারও নাম লেখা ছিল ধুলোয়।
তবু বাতাস এসে মুছে দিয়েছে,
ঠিক যেমন আমরাও মুছে দিই মুখের আদল,
প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ।
জীবন তো এক দগ্ধ স্নান,
পবিত্রতার মোড়কে আড়াল করা পোড়া ছাই।
তুমি তাকিয়ে ছিলে আয়নায়,
কিন্তু মুখ-তো তোমার নিজের ছিল না!
আরও একটি প্রশ্ন ঝুলছে আড়ালে,
কে ছিল তোমার? কে থাকবে?
নিঃসঙ্গতার মর্গে জমে আছে
অনেক নামহীন স্মৃতিফলক!
এখন তুমি চাইলেই ফিরে যেতে পারো,
অথবা থেমে যেতে পারো ঝরে পড়া শব্দের মতো,
ঠিক আগের দিনের শিমুলপাতার পাশে।
মদিরার মাতাল নৃত্য
তুমি এলেই ঘর বদলে যায়,
কান্না বদলে রক্ত হয়, চুমু বদলে আঘাত!
তোমার বুকের ওপর ভোর উঠে,
আর আমি মেঝেতে শুয়ে চেয়ে থাকি সেই সূর্যোদয়ের দিকে।
তুমি যখন চুল খুলে দাও,
আমার ভিতরে জেগে ওঠে শরীরী কোনো ঈশ্বরী—
যার প্রতিমা গড়া হয় তোমার ঘামে, দাগে, গভীর ক্লান্তিতে।
তোমার স্তনের পাশে মাথা রাখলে শুনি ইতিহাসের কান্না,
আর বুকে নামলে মুখ, পাই
সৃষ্টির আগের সেই শব্দহীন বিস্ফোরণের মতো নিঃশব্দ উত্তাপ।
তুমি এক রাত্রির রূপক,
যাকে পেতে গেলে প্রাণের ঘর ভাঙে।
আর হৃদয়ে জাগে, মদিরার মাতাল নৃত্য!
অন্ধ সবুজের কিনারে
চামড়া ঠেসা সকাল আজও আসে—
বেছে বেছে ভাঙে বাড়ির কোণগুলোতে।
আমার পা গুঁড়ে আছে মাটির কাছে, যেন ভুলে গিয়েছি হাঁটা।
একটা সড়কের মধ্যে জমে আছে দিনের শেষ ধুলো;
আমি শুনি সেখানে কাঁপুনি করে নামছে পুরোনো গল্প।
তুমি ছিলে কোনোদিন — না, ছিলে না;
তবু তোমার অনুপস্থিতি এখানে রয়েছে, মোচড় খেয়ে,
একটা জিনিসের মতো — কাগজে লেগে থাকা সিগারেটের ছাই।
আমি টেনে আনি সেই ছাই, মুখে রাখি; তাতে কোনো শ্বাস আসে না।
রাত হলে পুকুরটা বলে, বেশি কথা বলো না—
আলো এসে বসে পড়ে তোমার নামের পাতায়, অচেনা নীল।
একটি পাখি এসে দেখে চলে যায়, সে তোমাকে চেনে না,
কিন্তু তার ডানায় থাকে তোমার হাতের ঠোঁটের ছাপ।
আমি বলি—এখানে কিছুই স্থির নয়, তবু তুমি একটা সংকেত,
তোমার অনুপস্থিতি ধুলি-রঙিন, বুকে টিপে থাকা ব্যথা;
আমি তা আঁকতে চাই, লেজুড়ি হাতে, ধীর ধাপ দিয়ে—
তোমার গন্ধটা রেখে যাই এই অন্ধ সবুজের কিনারে।

0 মন্তব্যসমূহ