চট্টগ্রাম শহরের প্রিয় মুখ, জ্ঞানের আলোয় আলোকিত এক মানুষ, চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা মিনহাজ হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ১৯-১০-২০২৫ইং, শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৫ বছর। হঠাৎ চলে যাওয়া এই মানুষটির মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা ও তাঁর অসংখ্য প্রিয়জন।
পেশাগত জীবনে মিনহাজ হোসেন ছিলেন চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনে তিনি ছাত্রছাত্রীদের কাছে ছিলেন অনুপ্রেরণার প্রতীক। যুক্তিবোধ, নৈতিকতা আর শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসায় গড়া তাঁর জীবন ছিল তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সহকর্মীদের ভাষায়, তিনি ছিলেন এমন এক শিক্ষক, যিনি শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবনের পাঠও শিখিয়ে যেতেন নিঃশব্দে।
তবে মিনহাজ হোসেনের পরিসর কেবল শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত সীমিত ছিল না। তিনি ছিলেন সমাজসচেতন, সংস্কৃতিমনস্ক ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জ্বল এক মানুষ। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পথচলায় তিনি সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠা ও সাফল্যের সঙ্গে। তাঁর নেতৃত্বে বন্ধুসভার কার্যক্রমে এসেছিল নতুন উদ্যম ও স্বচ্ছতা। তাঁর কাছে বন্ধুসভা ছিল কেবল একটি সংগঠন নয় বরং একটি পরিবার, যেখানে সবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ছিল পরস্পরবিনিময়ের ভিত্তি।
বন্ধুসভার অনেকেই তাঁকে স্মরণ করছেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তাঁদের ভাষায়—“মিনহাজ ভাই ছিলেন এমন একজন, যিনি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে জানতেন। অন্যের ভালো লাগাটাই ছিল তাঁর প্রাপ্তি।” বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বলছেন, “স্যার ছিলেন আমাদের পরামর্শদাতা, শিক্ষক ও বন্ধু, সব একসঙ্গে।”
তাঁর মৃত্যুতে চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি পরিবার, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা ও তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে আসছে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অগণিত শোকবার্তা। কেউ লিখছেন, “একজন আলোকিত মানুষ চলে গেলেন, যাঁর উপস্থিতি ছিল আশার আলো।”
চট্টগ্রাম বন্ধুসভার পক্ষ থেকে একজন বন্ধু জানিয়েছেন —“মিনহাজ ভাই ছিলেন আমাদের দিকনির্দেশক, আমাদের পথচলার প্রেরণা। তাঁর কাজ ও মূল্যবোধ আমাদের মাঝে চিরজীবী হয়ে থাকবে।”
মিনহাজ্ব হোসেনের জীবনের মূলমন্ত্র ছিল মানবতা, সততা ও জ্ঞানের প্রতি অবিচল আস্থা। তাঁর চলে যাওয়া কেবল একজন মানুষের প্রস্থান নয়, বরং চট্টগ্রামের সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি।
প্রিয় এই মানুষটির আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি—যেন তাঁর আলো, তাঁর মূল্যবোধ, তাঁর স্নেহ চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের মনে চিরকাল বেঁচে থাকে।

0 মন্তব্যসমূহ