শরৎফুলের পূজো || কানাই দা



 বাবা, আমরা গরীব ক্যান? বাবা, পুজো কত দূর?
— এই তো কান্তা, আর একটু। এই মাঠটা শেষে খালটা পেরোলেই নন্দী বাড়ি।
— ওখানেই পুজো হয় বাবা?
— হ্যাঁ, ও বাড়িতেই দুর্গা পুজো, কালী পুজো—সব পুজো হয় রে মা!
— শোনো কান্তা, আমরা গরীব না।
— উঁহুঁ বাবা, পা ব্যথা করছে, আর কত দূর?
— এই তো আরেকটু, হাঁট মা।
— আচ্ছা বাবা, তুমি বললে আমরা কেউ গরীব না। তাহলে আমাদের টিভি নেই কেনো?
সুবীর দাদার বাড়িতে সবাই কত কিছু নিয়ে পুজোয় বেড়াতে আসে, আমাদের বাড়িতে কেউ আসে না কেনো?
— উফ, কান্তা, চুপ কর না! নৌকা আসছে, চল ওপারে।
আমি এক বাবা, আমি কান্তার সব কথার উত্তর দিতে পারি না।
আমার সব ছিলো, ওকে বুঝাতে পারি না।
বর্ষাকালের বন্যা আমার সব কেড়ে নিয়েছে—ওকে বুঝাতে পারি না।
— আচ্ছা বাবা, নন্দী বাড়ি কি আমাদের ঘরে ঢুকতে দেবে? ঘরে বসিয়ে খিচুড়ি দেবে?
— না মা! দেবে না। ঘরে প্রসাদ খেলে ঘর নোংরা হবে যে।
— তাহলে আমাদের ঘরে নকুল কাকা তোমার সাথে ভাত কেনো খায়? আমরা তো নোংরা হতে দেখি না! আমিও নকুল কাকার মতো সুন্দর করে খিচুড়ি খাবো।
— কান্তা, চুপ কর। বেশি কথা বললে খিদে বেশি লাগবে, চুপ কর।
— বাবা, মাইকে শোনো, গান বাজছে।
— হ্যাঁ, শুনছি।
— বাবা, তুমি এই গানটা গেয়েছিলে আজকে সকালেও। এটা মাইকেও বাজছে! আমায় একটু জায়গা দাও, মায়ের মন্দিরে বসি...
— বাবা, আমি বুঝে গেছি। নন্দী বাড়ির সবাইও আমাদের মতো গরীব। তাই না বাবা? শোনো, এই গানটা তুমিই তো গাও, ওরাও বাজাচ্ছে!
— নাম—‘এসে গেছি’।
— আচ্ছা বাবা।
— বাবা, মায়ের জন্য আমার টিফিন বক্স এনেছো? খিচুড়ি নেব বলছিলে তো?
— না, পলিথিন আর ছালার ব্যাগটাই এনেছি।
— ওতেই হবে। হাঁট এবার…

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ