মজনু শাহের কয়েকটি কবিতা


 ট্রিগার


কে কাকে ট্রিগার করছে, কে কার বানাচ্ছে ফাঁদ? 
ফাঁদে পা পড়ল এইমাত্র কারুর। কেরানিমাত্রই হরিপদ নয়। জ্বলছে প্রশ্নমোম। এক থাপ্পড়ে বত্রিশটি দাঁত ফেলে দিতে চাইছে কেউ। সাত ভাই চম্পার গান গাইছে আমাদের পারুল, জ্যোৎস্নায়, তার ছুটি ফুরালো বুঝি! এত কাজ! এত শ্বশুর, চারদিকে! 
আমি শুধু শব্দের বিষ ঘাস-চাপা দিতে এসেছি।  


    

▪️


রঙিন মৃত মাছ


সাতটি রঙিন মৃত মাছ ভাসছে পানির উপরে।
পাড়ে বসে শিল্পবিচারক ও বিড়াল
একসঙ্গে তাকিয়ে রয়েছে।
কোথায় তোমার আধ্যাত্মিক যুক্তি
আর সেই রাজসিক ডানার বিস্তার!
কিভাবে হারায় বিশ্ব, বহিরাবয়ব, উপমার অন্ধকার।


▪️


অশ্ব 


অশ্বচালনার পূর্বে, আরও কিছুকাল কেটে গেল অশ্বতত্ত্ব নিয়ে। একটি রশ্মি এখন আমায় এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে যাক, এই আমি চাই। 


অশ্ব কে চায় আর, যদি-বা অশ্বের প্রতিবিম্ব অধিক!একটি নিটোল অশ্বডিম্ব দিন শেষে আমি কি পাব না সেই প্রতিবিম্বের কাছে?  অকবিতার ভিতর 

যেভাবে মরে যায় যুদ্ধ-ফেরত অশ্ব, আমি তার মতো, হে নীলাভ কাঁচের পাত্র, আমি অনেকখানি তোমারও মতো, সুধা!   


 

▪️


অপর 


সমস্ত পাতা হারিয়ে ফেলা কাঠগোলাপ গাছ, কেমন আছ তুমি? ও আমার অকেজো গ্যাসবেলুন, কেমন আছ? এমন ধুলো-ওড়া স্বপ্ন, এমন কোনো নির্ঝর যেখানে একা বসেছিল ভাষামাধবী, ততদূর এলাম। 
আমার বাড়ি নাই আর, আছে শুধু শব্দের হৃদয়! এক অনিশ্চিতের জগত কান্তার ভ্রমে হেঁটে দেখা। কোনো দারুস্পর্শ মৃত্যু আমাকে সৃষ্টি করে চলে, নষ্ট জানালায় আছড়ে পড়া চাঁদ আজ আমার অপর।


▪️


ব্লাইন্ড লেন 


ক্রম বিলীয়মান জগৎ থেকে 
যেন কিসের গন্ধ আসে। 
কোনো দস্যুপাখির ঝাপটানো পাখার? 
লুপ্ত কমলালেবুর? 
লুপ্ত বাঙলা হরফের? 
নাকি সাতজন প্রণয়ভিক্ষুক পাহারা দেয় যে-বাগান, 
তার?


▪️


রাত্রিবেলা 


তুলোর বিড়াল কোলে নিয়ে বসে ছিলে। দেখি তুমি লেখা ভণ্ডুল করে চলে গেছ কখন। বিছানায় বসে বসে বিভ্রমের ট্যাপেস্ট্রির সব মিহি সুতো জড়িয়ে নিচ্ছ আঙুলে। ওদিকে ধুলো-ভরা ট্রেন নিয়ে ফিরে এল ধূলি-সওদাগর। কোথাও একটু পরে শুরু হবে ভয়াবহ রতি।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ