রোদসঁই
°
কবাট রুখো। পাতাপল্লব ঝরে যাচ্ছে। কোথাও বা ঝরে পড়ছে মেরুন রঙের শোক—বেহুলা বেদনার পয়গাম। ধ্রুপদ, তোমার উদয়াস্তের গতিপথে কে আঁকে হরিলুটের ছায়া! কে বুনে বিভ্রাট; উপোষী চাঁদের রিরংসার গাঁথা। সুধী কিংবা মান্যবর, আপাত স্লোগানের পাশে নত হোন। দৈবাৎ তুলে রাখুন শীৎকারসুরত রাত। ধুতরোবন্ধি লুপাট থেকে সতত জেনে নিক সময়। তোমাদের সায়াহ্ন সেপাইর নগরে, তল্লাটে—মনে রাখার কেউ হোক। আর ধুলট গন্ধের শিথানে মোহফুল ফুটলে—বোলো, চোখে লাগাও গণিকাপাড়া। এই রোদসঁই সম্ভ্রমে তোমাদেরও প্রেম হোক, মরণ হোক সনম।
পরাবর্ত
°
যে কোনো দৃশ্যের ভেতর গুচ্ছ জিঘাংসা, হরপ্পার ধুলো। বঙ্কিম চাতুরের ঘর—পরাবত মৌসুম। শায়ান সরে যাওয়ার দিনে—আচার্য মোহনায় মৌন হয়ে ওঠে বেসাতি পল্লব। নেহাৎ কস্তুরি বিকেল—চিঁ হি ঘোড়ার আস্তাবল। বন ছাড়ায়া যাওয়ার মরসুমে—দেহাতি গাঁওয়ে কাঁদা মাখে মেদেজল। ধেনুদুগ্ধ সান্টার কথা—হতিকর্তক মগ্নতা আর বেহতর উশুমের ফরাশে—যৌবন ছুঁয়ে ফেলে কামুকী ক্ষত। দূর...দূরতম বসন্ত আর ফাল্গুনী মেঘে—বহুদিন ঢাকা থাকে ফুলোফুলো হাওয়া। এখানে...এই সীতাপর্বে—পিরিতের বনে পাতা ঝরে। পরাবর্ত বাস্তবতার আড়ালে—কেউ কেউ লিখে ফেলে নতমুখো পাপ।
পরকীয়াব্রত ঘ্রাণ
°
ঘোরের ভেতর রজবতীর ছায়া।
ছিঃ ছিঃ—নালায়েক দিন।
নিতাই জলছবিতে এঁকে দাও
ঘুঘুয়াটি ফুল। আর বিধেয়—
সংলগ্ন সব কথাবার্তার বাঁকে
তুলে রাখো চুমু, রিদম, ওষ্ঠাধর।
ঋতুবতী সন্ধ্যার আড়ালে— যে
জল ছুঁয়ে যায় নি বাউরিবেতারির
পালক—সেখানেও ফুটিয়ে তুলো
আটুম। ভাঁপ-ওঠা পহর আর
শাদা শাদা ভাতের করায়ত্তে
মেপে নাও সুমসাম সুখ।
গেলাস আগায়া দাও ম্লানকন্যা।
চাউর হওয়া রাত, বহুল আলাপ
সরায়া রাখো। আধুল মোহতালে
পিষ্ট যে হৃদয়—সে শুনে নাকো
বোহেমীয় গান, ভুসোকালি স্বর।
জবাফুলের মরসুমে নগরময়
চর্চা তোমার; রজবতী কিম্বা
ম্লান। স্বেচ্ছাচারীতার সব দেখে
নাও। হাসো। সমস্ত বৈতরণীর
পাড় ধরে হাসো।
ঘোরের ভেতর তোমার ছায়া।
ঘরের ভেতর থিকথিকে মাতম;
পরকীয়াব্রত ঘ্রাণ।
তীর্থযাত্রা
•
সাধু-সামন্তের আড়াল ছাড়ায়ে
পোয়াতি জলসায় উঁকি দেয় আলো
এই গুমগুম কেসসা
এই ভেদ
এই মৌবন
প্রেমের অন্তর্ধানে কাঁপতে থাকে
সুমসাম বানারস দিন
তরল কথাদের আল্লখেল্লা, আর
ভাসমান বেনেমাল্লার নাও-য়ে
সমূলে ভিজে গেছে ছাতিম
এই আধুলি
এই হুল্লোড়
এই বসন্ত
চাঁদপসর থাকতেই গাইতে নামে
মালতী জলের ঢেউ
শ্যাওলাধরা পাটাতনে, যেখানে
জীবন জাড়ায়ে রাখে অনাগত কুসুম
সেইখানেও উঁকি দেয় আলো
এই গুমগুম কেসসা
এই ভেদ
এই মৌবন
সাধু-সামন্তের আড়াল ছাড়ায়ে,দূরে
বাউলের নগরে
একাকী হারায়ে যায় কবিতার কেউ

0 মন্তব্যসমূহ