আহত চড়ুই
ব্যালকনির ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
চড়ুই পাখির পালক কুড়িয়ে রাখে
আমার পাঁচ বছরের মেয়ে।
প্রশ্ন করে-
বেবি পাখিটার জামা ছিঁড়েছে কে বাবা?
উত্তর খুঁজি আকাশের কাছে।
যে আকাশ এক মুক্ত মানচিত্রের আবদারে
আমাকেই প্রশ্ন রাখে -
গাজার পাখিরা কেন উড়াল শেখার আগেই বুলেটবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটায়?
নির্বাক আমি পালকে লেগে থাকা রক্তে ফিলিস্তিনি শিশুর সন্ত্রস্ত আর্তনাদই কেবল শুনতে পাই।
২৫ মার্চ ২০২৪
লালরঙ পতাকা
তোমাদের মিসাইল বোমার আদলে বানাতে পারিনা কোন মারণাস্ত্র।
কাগজের পৃষ্ঠাজুড়ে অসংখ্য সাদা পায়রা এঁকে উড়াই আকাশে।
যে সৈন্যরা নির্দয় বুলেটে উড়িয়ে নিচ্ছে মাত্রই হাঁটতে শেখা শিশুর কোমল খুলি,
আমার কাগজের পায়রাগুলো তাদের শেষকৃত্য সেরে সেখানেই লুটিয়ে পড়ে।
টিভি পর্দায় ধূসর আগ্রাসনে কেঁপে কীভাবে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হচ্ছে মানচিত্র
শুধু সেটাই দেখাচ্ছে।
অথচ আমার সে সাদা কাগজগুলো রক্তভেজা হয়ে ফেরত আসে একেকটা লালরঙ পতাকার মতন।
১২ অক্টোবর ২০২৪
অদৃশ্য ছায়ারাই মৃত্যু কিনে নিয়ে যায়
এটা যেন এক মৃত্যুর হাটবাজার।
পলকে পলকে বিস্ময়মাখা মুখসব প্রশ্বাস ছেড়ে দিয়ে পাড়ি দিচ্ছে উর্ধ্বমূখী নিশানায়;
দেহখানি কংকাল হয়ে অপেক্ষা করে
মাটিগন্ধী খরিদদারের জন্য।
কেউ কেউ নেড়েছেড়ে হাকছে দাম।
কেউ ছুঁয়ে দেখছে।
ক্লাউন পোষাকে আলগা নখের আঁচড় দিয়ে কেউবা লেগে থাকা রক্তটুকু চুষে নেয়।
কাদামাটির সিংহাসন দখল করে রাখে এক নৃশংস চোখের শকুন।
শহরের সব ক্ষুধার্ত কাক তার চতুর্পাশে ভীড় করে।
কফিনের চোখ ফাকি দিয়ে তারা হৃৎপিন্ড লুট করে যায়।
খোলা মাঠে এই বাজারে থেমে থেমে আকাশ থেকে অদৃশ্য ছায়া নামে।
মৃত্যু এক ধারালো শরীর রেখে সে ছায়ার সাথেই মিলিয়ে যায়।
চোখ, চুল, চামড়া আর বোধহীন মগজ নিথর পড়ে থাকে।
মাটিবাসী ক্রেতাদের কেউ এখানে কখনো নিঃশ্বাসের সুবাস কিনতে আসে না।
থলে ভরে তারা শুধু অসাড় কংকালের সওদা করে ফেরে।
২ নভেম্বর ২০২৪
আগুনসীমানা
দাউ দাউ করে জ্বলছে যে আগুন
পুড়িয়ে দিচ্ছে শহরের পর শহর
এ আগুনকে অপরাহ্নশৈলী বর্ণনায় কবিতা লেখা যায়!
কুকুর ছানার দল লাল রঙ দেখেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
কেউ উষ্ণতার খোঁজ নিতে গিয়ে পোষাক খুলে সেল্ফি মেরে রাখে।
অক্সিজেন পুড়িয়ে দেয়া আগুনের সাথে খেলা করে ভেসে আসা সমুদ্রের নুনবাতাস।
দমকলের স্পীড অসহায়; পানি ছিটিয়ে যায় হেলিকপ্টারের পাইলট।
সভ্যতার আর্কিটেক্সার মুছে যাচ্ছে,
পোড়া প্রাসাদের দুয়ারে কাঁদে হলিউড অভিনেতা।
বিমর্ষ তাবৎ টিভিপর্দা মানচিত্র বদলের ফুটেজ প্রচার করতে থাকে।
ওদিকে অন্ধ আলোয়
গাজার ছাই গায়েব করে চলে
আকাশদূতের দল।
২৪ জানুয়ারি ২০২৫

0 মন্তব্যসমূহ