ফিলিস্তিনকে নিবেদিত কবিতা : হিমেল রিফাত





দ্বিতীয় রাজধানী

আমাদের হৃদয়ই হয়ে ওঠে সহসা কাবা, বুকের জমিন জায়নামাজ হয়ে সিজদাহ্ দীর্ঘ করে
আমাদের হৃদয়ই হয়ে ওঠে আল আকসা, চোখের দলিল স্বাক্ষরিত হয়ে যায় আরশে আজীমে
মুহূর্তের মলাট নয়, দীর্ঘদেহী পুস্তকের সবটা জুড়ে আমাদের উপাখ্যান
বিজয় আমাদের রক্তে মিশে থাকা শ্বাশত চিরায়ত শ্লোগান

যালিকাল কিতাবে বর্ণিত হয়ে গেছে পনেরোশত বছর আগে; পরীক্ষার নিক্তিতে হবে হয়তো কিঞ্চিৎ হেরফের
ফলাফল মাথা উঁচু করে ঘোষণা করা হবে— বিজয় সন্নিকটে। বলি, আল আকসা আমাদের।
পেছনের সব দ্বিধা মাড়িয়ে, সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে যাবতীয় জুলুমের করে লীন
তাকবীরের ধ্বনিতে মুখরিত হবে ফিলিস্তিন, হৃদয়ের মিনারে আজান হাঁকাবে মুয়াজ্জিন,

পয়লা কিবলা, বায়তুল মাকসাদ; আমাদের হৃদয়ের দ্বিতীয় রাজধানী
মহাকালের শুভ্র অভ্র ক্রমেই কেঁপে ওঠবে— সত্যের কেতনধারী মাজলুমের আর্তচিৎকারে
যারা আজ চোখ ভেজায় কাফেরের নড়চড় দেখে, তারা মূলত নমরূদের সহোদর
নমরূদ ও তার প্রেতাত্মারা অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল অবধি আমাদের বিপরীত অক্ষের অশুদ্ধ হাওয়া!
জেগেছে মাজলুম, দুচোখের পাতায় যেন বিজয়ের আভাস,
শির উঁচু করে দাঁড়িয়েছে আমাদের ভাইয়েরা; হামাস।

যুগের ঘূর্ণিপাকে কালেমার কেতন রক্ষার্থে উম্মতে মুহাম্মদী জেগে ওঠে বারংবার
বাবার হাত ধরে ক্ষণিকের জন্যে রবের সাক্ষাতে গেছে যে শিশু সিজদায়, আকসায়;
ইয়াহুদীর বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া বুক ফুলিয়ে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান সে গেছে চিরতরে রবের দরবারে
যে পঙ্গু মাজলুম হুইলচেয়ারে বসে হৃদয়ের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে কংক্রিটের ঢিল ছুড়ছে কাফেরের মুখে
সে জানে ঈমানের জোর, বিস্মিত চোখে ড্যাবড্যাব তাকিয়ে থাকা কাফের জানে ঈমানী শক্তির বেগ!
আমরা জানি, সময়ের পথ মাড়িয়ে গেলে সাহসের সমাচার খুলে, ফুরাবে জুলুমের পথ
এও জানা আমার, যতই কঠিন হোক সময়; আকসায় রক্তনদ থামবে— এই সময় শীগ্রই ফুরাবে
হবে নতুন দিগন্তের উন্মোচন, যে দিগন্ত এনে দেবে পনেরোশত বছরের চিরঅমর শুভ্রতা।

সব সংকোচ কবরস্থ করে খুলে ফেলি পাতা; হিসাবের
মিম্বরে মিম্বরে আহ্বান করি আল আকসা আমাদের।

ওরা আমাকে কীট ভেবে পুঁতে ফেলে! অথচ আমি বীজ, পুনরায় গজে নতুন সবুজে বেড়ে উঠি তরতর করে
তার হিসেব জানা নেই ওদের, যে ফুলের রঙ মুছতে গিয়ে পুরো গাছ পুঁতে দেয় জালিম
সে জানে না, নতুন বীজের পুনরুৎপাদন ঘটিয়ে দো-জাহানে শোভা ছড়াবে এই পুষ্পবৃক্ষ,
আমরা তো রক্তের নদী পেরিয়ে গ্রেনেড গিলে বেয়নেট চিবিয়ে পৌঁছে যাব বিজয়ে, ছুঁব মুক্তির বন্দর
প্রেরণায় মনোবল বাড়ে, হৃদয়ে ঊষা আনে পূর্বসূরির দল; আমাদের আলি, সালাউদ্দিন, উমর।

আর কিছু পথ, সবরের সাথে গেলে সম্মুখে, উঁকি দেবে নবারূণ
তাকবীরের ধ্বনি বাজিয়ে তাওহীদের বাণীতে গাজা মাতিয়ে হৃদয় পৌঁছে যাবে আরশে আজীম!

জেনে নিও কাফেরের দল, নমরূদের সহোদর, ফেরআউনের রক্ত; জানিয়ে দাও অজানাদের
বিজয়ের ঘ্রাণ লেপ্টে সভ্যতার উত্থানপতন মোকাবিলা করে বিজয়ের বন্দরে নোঙর ফেলি বারবার;
অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল অবধি হৃদয়ের দ্বিতীয় রাজধানী হয়ে আল আকসা আমাদের। 

১৯ আশ্বিন, ১৪৩০ /  ২৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৫।

(নিবেদন: হামাস'কে)




ইনসাফের বায়াত

সময়ের তীরে দাঁড়িয়ে— কালের গর্ভে হারিয়ে
ডুবে যেতে চায় অরুণ-আশার,
মহাকালের আজানে ফের নিভে যাবে সকল আঁধার।
দিশাহারা জগতে দাও রাশেদার সোনালি সুদিন
সবরের সাথে দাও অজেয় জিহাদী ইয়াকিন
যুগের সুযোগে পাঠাও আবারও বীর সালাহদিন।
বুক জুড়ে উড়বে সুখপায়রা
হৃদয়ে রবে শহীদী ভাইয়েরা
সাজদায় চেয়ে যাই আবারও ওমর
চেয়ে যাই রাশেদার সোনালি সুদিন,

গোলামের তরে দাও রহম আর মাফ
জমিনের সবজুড়ে হাসুক ইনসাফ।

ইনসাফের বায়াত শুনিয়ে, ক্বলবে দাও—
অজেয় জিহাদী ইয়াকিন, পাঠাও বীর সালাহদিন
চেয়ে যাই রাশেদার সোনালি সুদিন।



গাজা পাক মুক্তি

খুব করে চেয়ে যাই মোনাজাতে
মুসলমান ফিরে পাক শক্তি, গাজা পাক মুক্তি 
ইমাম মাহাদী আসুক এমন প্রভাতে
ভোরের গুঞ্জন পাকিয়ে তেলাওয়াত হোক—
ইয়া আল-মুহাইমিন, ইয়া আল-আজিজ,
ইয়া আল-জব্বার, ইয়া আল-মুতাকাব্বিইর,
আল-খফিদ্বু, আল-মুদ্বি'ল্ল, ইয়া সামিউন বাছির,
ইয়া আর-রক্বীব, আল-মুনতাক্বিম, ইয়া আল-ফাত্তাহ;
শেষ রাতের আকাশে পাঠাও অজস্র আবাবিল।

জমিন বিদীর্ণ করে ভূখণ্ডে দাও আসাদুল্লাহ গালিব
আকাশ হতে নিক্ষেপ করো মূসার লাঠি
একতার মিনারে সমবেত করো সকল মুসলমান, কপালে কালেমার কেতন আর আলি-ওমরের তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে যাক সালাহদিন আদিব,
ভূপৃষ্ঠের ধ্বংসাবশেষে আহাদ আহাদ ও তাকবির ধ্বনিতে মুখরিত করো মাজলুমের কণ্ঠ।

বদরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ মনোবল তাকিয়ে দেখুক রবের বিশালতা
ইয়া আর-রাহমান, জেরুজালেমকে করো জালিমমুক্ত আবাসন
কাবার গিলাফ ধরে আকুল গলায় কাঁদা অবুঝ শিশুটির চোখে ভাসাও ইজরায়েলমুক্ত বিশ্ব; ইয়া আল ফাত্তাহ—
সবুজ গম্বুজে ধ্বনিত হোক উম্মাহর বিজয়ের সুখাজান, আর মিটে যাক সব হেরফের
আকাশে আকাশে গুঞ্জরিত হোক আল আকসা আমাদের।


 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ