সোয়েব মাহমুদের কয়েকটি কবিতা


প্যান্ডেমিকের কবিতা- গার্মেন্টস কর্মীর জুতো


 রংপুরের মেয়ে, গার্মেন্টস কর্মী মৌসুমী আক্তার।

এটা গল্প নয়,
ঈদের পরদিন সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠে আমি গল্প বলতে আসিনি,
আমি আপনাদের দৃষ্টি পৃথিবীর উন্নত,
শুয়োর প্রজননে গত দুইদশক শীর্ষ স্থান দখল করা
সোনার বাংলা,
চিকিৎসা খাতে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়া রাষ্ট্র,
গনতন্ত্রের মা খ্যাত গনতান্ত্রিক নিরোধের
রাষ্ট্র থেকে সরাতে
কোন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে আসিনি।
আমি শুধু এসেছি এই দুপুরে রংপুরের মেয়ে মৌসুমী আক্তারের কথা বলতে।
সময় আছে ঈদ পরবর্তী করোনা ফেষ্টিভাল,
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের তার একজন জনগনের প্রতি
কমিটমেন্ট তত্ত্ব ছেড়ে কথা শোনার?

আমি দশমিনিটের স্কুলে ইংরেজি শিখছি সদ্য তাই বাংলাটা ঠিক আসেনা।
শুনুন
রংপুরের মেয়ে মৌসুমী আক্তার
জ্বর জ্বর অনুভূতি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো ট্রাকের পেছনে,
গার্মেন্টসে ৪ মাসের বকেয়া বেতন পাওয়া যাবে
আশ্বাসে ফিরেছিলে কর্মক্ষেত্রে।
বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, ঈদ সামনে -
গার্মেন্টসে কাজ চলছিলো
শুধু বেতন পাচ্ছিলো না -
সাবেক নগরপিতার স্ত্রী
হাপিশ করেছে সরকার সহ সরকারী প্রণোদনার ৫০০০ কোটি টাকা।

জ্বর বাড়ছিলো জ্বর থামছিলো না
গলা টিপে ধরছিলো,
লোকে বললো নমুনা পরীক্ষা করতে কিন্তু
সরকার মহাশয় সে সুযোগ দেয়নি সর্বস্তরে।
অগত্যা বাড়ি ফেরা
সরকার ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি ফেরার সুযোগ দিলেও
অপদার্থ মৌসুমী আক্তার ব্যক্তিগত গাড়ি কিনতে পারেনি,
ট্রাক হলো সম্বল,
বাড়ি ফিরবার পথে, ট্রাকের ভেতর জীবন
জীবনের ভেতর মৃত্যু - ট্রাক থামে,
তাজহাটে ট্রাক-ড্রাইভার রেখে যায় লাশ রাস্তায়-
পুলিশ অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে রাখে হাসপাতালের মর্গে ।

একদিন পর স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ বাবা আসে
বাবা স্তব্ধ -
চেয়ারম্যান আবার শ্রমিক নেতার লোক -
জনগন জোগার করে ঘোষণা দেয়
লাশ গ্রামে নেয়া যাবে না
পুড়িয়ে ফেলতে হবে এখনই -
রংপুরের মেয়ে মৌসুমী আক্তার টি আর পির
বাজারে দাগ ফেলেনা ,
চেয়ারম্যান এখানে ঈশ্বর থেকে ক্ষমতাবান
বাবা- নিরুপায় বাবা হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে দেয় ঘুষ
আশ্বাস পায় মেয়ে তার পাবে মাটি -
হঠাৎ খবর আসে দুইদিন পর একটা লাশ ভাসছে নদীতে ,
বাবা দৌড়ে যায় - রংপুরের মেয়ে মৌসুমী আক্তার ।

প্রগতিশীল চুতিয়াদের দেয়া সেলাই দিদিমনি ডাকনামের
মৌসুমী আক্তার ভাসছে নদীতে -
উদ্ধারকারী পুলিশের চোখে কান্নার দমক।
হাসপাতালের ডাক্তাররা নির্বাক নিস্তব্ধ
অথচ চেয়ারম্যান ঈশ্বর থেকে শক্তিশালী
বাবা পচে গলে যাওয়া রংপুরের মেয়ে
মৌসুমী আক্তারকে বুকে নিয়ে বসে আছে
৫০০০টাকা ঘুষ দিয়েও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে
মারা যাওয়া মেয়ে মাটি পায় নি মাটি।
একটা দূর্নীতিবাজ সরকারের তীব্র নিন্দা জানাতে প্রকৃতি বেছে নিলো
মৌসুমী আক্তার -
ট্রাকে লাশ, রাস্তায় -
তারপর অজ্ঞাত পরিচয়ে মর্গ হয়ে নদীতে
ও ভেসে যেতে পারতো -
বাবা কাঁদতো
মাঝেমধ্যে ঘুষ দেয়া কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করতো
আমার মেয়েটার কবর কোথায় দেখাবেন?
অন্য কবর দেখিয়ে দিতো হয়তো -
নাহ প্রকৃতি সে সুযোগ দেয়নি।।

আমি রংপুরের মেয়ে মৌসুমী আক্তারের জন্য
সদ্য ঘুমভাঙা চোখে
কাঁদতেও পারছিনা -
আমি নির্বাক হয়ে আছি -
আমার গলা চেপে আসছে
এত এত উন্নয়ন আমি নিতে পারছিনা
আমি হয়ত পাগল হয়ে যাচ্ছি / অথচ সাহস পাচ্ছি না
একটু সাহস জন্মালে বুকের ভেতর
আমি প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দাড়িয়ে
ধ্যাত উন্নত রাষ্ট্রের সৎ ধ্যাত্তেরিকা বাল,
প্রেসিডেন্ট তুমি কোথায়?
তোমার চোখের সামনে আমি আগুন লাগাতে লাগাতে নিজের শরীর
লিখতে চাই -
রংপুরের মেয়ে মৌসুমী আক্তার খালি পা'য়ে
শুয়ে আছে
একজোড়া জুতা হবে জুতা -

অধিকার একটা কালো গরুর মতন ভেঙে পরছে
সবুজ ঘাসের উপর।
একজোড়া জুতা হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী -
জুতাজোড়া পেলে মৌসুমী আক্তার অন্তত
হেঁটে পার হবে এই অভিশপ্ত ভুমি!
পার হবে আপনাদের উন্নয়ন রুপকথার সাঁকো।

( শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান এখনও রাজি নয় লাশ দাফনের অনুমতি দিতে)


আমি এক মাতাল সার্কাসম্যান


হৃদপিন্ডের খুব কাছাকাছি বাজছে যে সানাই করুণ রোদনে তাকে জানানো হয় না -বিছানায় টং হয়ে বসে থাকে রাত।শরীর অনুবাদে হেসে উঠে গগলসের চোখ, আমাদের দেখা হয় না....

চুত্মারানী শব্দের জুতসই ব্যবহার শিখতে পারিনি বিধায়, আজও মূল্যহ্রাসের জীবন লাইনে দাড়ায়, পাজামা খুলে দেখাতে হয় কুমারীত্ব।

অবশ্য, অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়, বহু পুরানো দৃশ্য ।

বিরক্ত যোনীর কপাল কুচকানো কুচকাওয়াজে একজন ভন্ড, প্রতারক -মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে আসা লোফার ,বিস্কুট খাবে বলে এসেছে। ধরিয়ে দিন ওকে ধরিয়ে দিন,এখন জ্ঞানীদের নীরবতার সময় - শব্দ জোরে ধ্যান ভাঙলে বিরক্ত হবে রাষ্ট্র ,কাজেই শব্দ অপরাধীকে ধরিয়ে দিন -বন্ধ করুন খেলা.. নীরবতা মানেই পূন্য শব্দের যোণী বন্ধ করে কবিতা উৎপাদন বন্ধ করুন, রাস্তায় রাস্তায় পরে থাকুক লাশ- আমাদের দেখা হয় না। আমাদের বলা হয় না সেসব দিনের কথা, যখন নিরোধ কিনবো বলে ফুলের দোকানে ঢুকে পরাটাই জাদুবাস্তবতা! চোখের পাতায় লেগে থাকা ক্ষুধায় কাতর শোল মাছ, বুকের পাতায় পাতায় শৈশব লজেন্স- হাতের রেখা দেখে দেখে মাপি দূরত্ব ঘর থেকে বেশ্যাপাড়ার, শুনেছি ওখানে সুলভে পা চ্যাগিয়ে শুয়ে থাকে গণতন্ত্র !

আমাদের অবশ্য দেখা হয় না ,কথা হয় না,শুধু হাত থেকে হাত বদল হয় বিশ্বাস, যেভাবে ছোটবেলায় বদল হতো নীল দৃশ্যের বই।


অজ্ঞাতবাস


আজ থেকে বছর কুড়ি পর তোমার মনে পড়বে,
তোমার মনে পড়বে, তোমার চশমার কাচেই আমার অজ্ঞাতবাস
তোমার মনে পড়বে শেষ কথোপকথনে কোনও এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছি-
“আপাতত এক -না এর সাথে আছি
তোমার মনে পড়বে এক দুপুরে একা দাঁড়িয়ে থাকা রোদ্দুর একশ পাঁচ
মনে পড়বে ক্ষুধার্ত ঠোঁটে অপেক্ষায় অবসন্ন সন্ধ্যেটার অবস্থান ধর্মঘট,
মনে পড়বে মিছিলে দেখেছিলে রেললাইন জুড়ে নিস্তব্ধতার পাইনবন, দোল খায়
কড়া নাড়ে, মাঝেমাঝে বুক থেকে বুক বরাবর এক রক্তাক্ত সরলরৈখিক শরীর আড়াল করে
আড়াল করে মন খারাপের বুধবার রাত আড়াইটা,
চোখের পলকেই ছুঃমন্তর একফোঁটা বৃষ্টির ছিপনৌকোর ভোর ছয়টা!

এমন অনেককিছুই মনে পড়তে পড়তে
আজ থেকে বছর কুড়ি পর তুমি এবং তোমরা জানবে,
একদিন তোমাদের অবহেলায় তোমাদের বুকের মেঘে স্তব্ধতায় আমার হারিয়ে যাবার গল্প
জানবে, কোনও এক চশমার জোড়া আকাশে আমার আজীবন অজ্ঞাতবাস


আমি এক ব্যর্থ চ্যাপলিন


এইযে শুনুন, আমি ব্যর্থ চ্যাপলিন- সিস্টাইন চ্যাপেলের।

প্রিয় নারীরা,
যদি আপনাদের কখনও আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে হয়,
তবে সিকি শতাব্দী পূর্বে সাতশ নারীস্তন থেকে
আমি যে ডানা এনেছিলাম,
অস্বাস্থ্যসম্মত প্রত্যাখানে আবার
যে ডানায় আমি উড়ে গিয়েছিলাম কর্পুরের মতন,
সে ডানা চাইলে নিয়ে আকাশের বুক থেকে
আকাশের সামিয়ানায় উড়ে বেড়াতে পারেন।
যদি কখনও আপনারা
হারিয়ে ফেলেন ঠিকানা, হারিয়ে ফেলেন আশ্রয়।
চাইলে রাত বারোটার লোকাল এসে পড়বার পর,
শহরের বা-প্রান্তের শেষ বাড়িটার কড়া নেড়ে দ্যাখতে পারেন,
কড়া নাড়লেই ভেতর থেকে
উদোম গায়ে বেরিয়ে আসবেন হাতে নিয়ে জ্বলন্ত হৃদয়
একজন কবি- একজন রাষ্ট্রদ্রোহী,
একজন সামাজিক বেশ্যালয় পরিত্যাগ করা পৃথিবীর জীবিত থাকা
একমাত্র প্রেমিক।

আপনারা ওখানে তার কাছে গিয়ে বসতে পারেন।
দ্যাখে নিতে পারেন " পাবলো নেরুদার জন্ম!"
দ্যাখে নিতে পারেন " সেবাষ্টিয়ানের মৃত্যু"
শুনে নিতে পারেন " আ জম্বি হোয়েন ক্রাই"
অথবা হুইস্কি লুলাবাই।
এবার ভোরবেলায় আপনার চোখে মুখে নিয়ে কুয়াশা
ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন চলন্ত ট্রাকের সামনে,
ঠিক যেভাবে আপনি আবিস্কার করলেন এতটা সময় যেখানে কাটালেন
সেটা আসলে শহরের শেষ কবর, শেষ বাড়িটার ভেতর।
যার ফলকে লেখা - সোয়েব মাহমুদ বাড়ি আসেন নি,
শেষ লোকালেও আসেনি প্রজাপতি, আমার সাদা প্রজাপতি।


চুপচাপ বৈপরীত্যে বসবাস


বিপুল বৈপরীত্যের দূর্লভ জীবন আমার,
যখনই মরে যেতে চেয়েছি বিক্ষুব্ধতায়,
যখনই আত্মহত্যা করতে ঠেসে দিয়েছি আমাকে ট্রাকের নীচে,
বাসের সামনে,
সিরিঞ্জের ভেতর পৃথুলা পৃথিবীর বিক্রয় রশিদ নিয়ে,
কণ্ঠনালীতে প্রবেশ করিয়ে অমোঘ বিধান,
কিছুতেই হয়নি কিছুই। কিছুতেই কিছুই হয়নি।

যখন রাত দশটায় কবি'র কবিতায় পড়ে ফেলি
তোমার সাথে আমার দেখা হয়,
তোমার সাথে আমার দেখা হয় প্রিয়তমা,
তোমার সাথে আমার কথা হয়,
বুকের ভেতর রেখে মুখ,
তোমার সাথে আমার বিনিময় হয় দৃষ্টি,
মানিব্যাগে তোমার লাল সূর্য নিয়ে অতঃপর
তোমার সাথে আমার বিষন্নতা নিয়ে দেখা হয় আবার,
আবার আমাদের খুব কথা হয়,
একটা ট্রেন হুইশেল বাজিয়ে তোমার পুকুর খনন করতে করতে
আমাকে ডুবিয়ে নিয়ে যায় জীবনে।

( মধ্যরাতের কুকুর বন্দুক হাতে নিয়ে
তুমুল বাজে রাগ ভৈরবীতে।)

আমার সাথে কথা হয় ঈশ্বরপত্নীর।
আমার সাথে কথা হয় আমার।

তোমার সাথে আমার দেখা হবার পরই প্রথমবার,
প্রথমবার আমার বেঁচে উঠা হয়,
ইচ্ছে হয় হট্টগোলের বাইরে থেকে,
আমার ইচ্ছে হয় তুমুল বাঁচি।

রবিবার ভাল্লাগেনা বলা আমার সময় আমি ধরতে পারিনা,
আমি সোমবার বসে থাকিনা,
পাশ দিয়ে সাইসাই সাইকেল,
আমি মঙ্গলবার পানশালায় যাইনা,
পাশ দিয়ে হুরহুশ বাস।
আমি বুধবার রিক্সায় আগুন্তক ট্রাক,
আমি ভয় পাই, আমি হাসি,
আমি উন্মাদ হয়ে উঠি
আমি তাকাই ত্রস্ত হাতের পাতায় নেমে আসা রাতে,
আমি বিপুল বিরুদ্ধতা নিয়ে আকাশে তাকিয়ে থাকি,
আমি বলতে থাকি
আমি বাঁচি, আমি হাসি
আমি হাতে নিয়ে আঁকি আমার জন্মদিন।

আমি
বিপুল বৈপরীত্যের চলচ্চিত্র আমার দেখতে থাকি।
আমি
দেখতে থাকি আমার সাথে তোমার কথা হয় দারুন।
আমি
জানতে থাকি একবার কেবলমাত্র একবার বেঁচে উঠতে চাইলেই
বিপুল বিস্ময়ের আয়ু কমতে থাকে আমার।।
একবার বাঁচবো আমি বলতেই দেখি শিয়রে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
হাসছেন আজরাইল।

অথচ
তোমার সাথে আমার দেখা হয়, আবার।



পাখি

পাখি উড়তে চাইছে, দ্যাখো পাখি উড়ছেই।
হৃদপিন্ড থেকে কালো শিরা বেয়ে, উজান থেকে ভাটিতে।

উত্তর থেকে দক্ষিণ কিংবা তোমার কেবলা পশ্চিম থেকে পুবে।

থামাথামি নেই, চলছে এক আকাশে পাখির লংমার্চ!
আজ ছায়া থেকে অন্ধকার নামে, জেগে উঠে এক মৃদু কম্পনে।
থেমে যাওয়া ঝি-ঝি পোকার শ্লোগানে মিথ্যে অহমিকার
ছাপ্পান্ন রীল ভালোবাসায় উনিশ রীল ব্ল্যাংক!

এ- আর নতুন কী- বলো!
তুমিহীনতার ভয়ংকর অভ্যাসগত অভ্যাস, এ তো নতুন কিছু নয়।

ব্লাউজ বন্দী শহরে অন্তর্বাসহীন নিরাপত্তায়,
তুমি যাকে অনায়াসে মৃত্যু বলতে পারো,
দেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাকে বলতে হয় –
উঁহু আমি নিখোঁজ!
নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিপ্রচার যোগ্য নয় বলে

সাহিত্য সাময়িকির পাতায় ছাপা হয়-
দৈনন্দিন মৃত্যু এলিজি অথবা একটি জন্মের সাথে মিথ্যা সহবাস!
পাখি ছটফট করে আকাশে আর শোকেসের প্রজাপতিগণ
বৃষ্টি বিভোর ঘুমে মত্ত।

আমি কে এবং কবেকার এইসব নিত্যকার প্রশ্নে আমিই
হারিয়ে যাই উত্তাল যুবতী সন্ধ্যায়। একা পরীবাগের রাস্তায়।"
কবি'র আত্মহত্যার ইচ্ছেতে লেখা চীরকুট হয়ে যায়
অসামান্য কবিতা; এও ঈশ্বরের এক ভয়ানক প্রতিশোধগ্রহণ।
আজন্ম ঈশ্বর যে কবি'কে প্রতিদন্দ্বীই মনে করে আসলেন।

অতএব,

ধ্রুপদী বিষন্নতায় আলগোছে একটা শব্দ, হুমম একটা শব্দ সামনে
বোতাম সম্বলিত ব্লাউজের আধুনিক পোষাকী সভ্যতার
নিরংকুশ আধিপত্যে শীতের জবুথবু সন্ধ্যা হয়ে যায়।
আর আমি মানিক চাটুজ্জের এক জেদী গল্প "প্রাগৈতিহাসিক"
এর কাশবনের মাঝে জেগে থাকা ট্রেন হয়ে খুজে বেড়াই পার্থক্য
"স্বাধীনতা এবং স্বেচ্ছাচারীতার"...

খুঁজে পেলাম কি পেলামনা তা অবান্তর,
তাই শেষঅব্দি লিখে দেই কাকবন্ধ্যা আকাশে-
প্রিয়তমা, আমি তোমাতেই ফিরবো, জানলা খুলে রেখো।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ