একদিন
কতকিছু হয়, খালি আমাদের দেখা হয় না; কথা হয়, শোনা যায় না— এ এক ভার্চুয়াল দুর্যোগ, কপালের কানকাটা...দুঃখের অধিক দুর্ভাগ্য;
একদিন মোবাইলে কল দিলে ধইরো। ভালোমন্দ জিগাইলে উত্তর দিয়ো। মনে কইরো না, কে না কে! কথা কমো না—এমন মনোভাব আইনো না, মানুষ মনে কইরো, ভাইবো যে একদিন চিনতাম এমন মানুষ ধুলার মতোন আশেপাশে উড়ত, হাসতো বৈশাখের রোদ আর বাতাসে বাতাসে আঁকতো আমারি পুতুলমুখ। একদিন তারে ভালোবাসি কওনাই, একদিন বিকালে কান্নাঝরা তোমার দুচোখ দেখেছিল সে আর বলেছিল, মোবাইলে কল দিয়ো আর তুমি তারে বলেছিলে, এতোদিন কোথায় ছিলে? এতোদূর যেতে হবে নাকো; দম আটকে যাবে খালি একদিন কল দিলে ধইরো সেই ষোলো সালের পরিচিত নাম্বার, জিরো ওয়ান সেভেন এইট সিক্স...তারপরেরগুলা তো জানোই। যদি আমার বন্ধু কথা কয়, যদি কয় আলম সাধুরে চিনেন, না কইয়ো না, চিনতাম বইলো, না হলে বন্ধু আমার মনখারাপ করবে, আমি চাই না আমার কথা রাখতে যায়া বন্ধুর মনখারাপ হোক। বেশিকিছু না কয়া যদি আমার বন্ধু কয়, আলম সাধু মরে গেছে; হাত থেকে মোবাইল ফেলে দিয়ো না জানি, ফেলে দিলেই কিছু অর্থদণ্ড যাবে, আমি কখনোই চাই না তোমার কোনো ক্ষতি হোক। তা আমার লাশটারে দেখতে আসবা তো মৌ-পাখি?
নিজের কপালে নিজে
মনে হয় নিজের কপালে নিজেই চুমু খাই
পারিনে, বলতে ইচ্ছে হয় তুমি এসে চুমু খেয়ে যাও
নয়তো ঈদ ছাড়াও কুরবানি হয়ে যাব
যেকোনো দিন, গোবর শুকালে যেমন ঘুটো হয়ে যায়
আমি তো তেমন হতে চাইনি, চিরকাল ধরে
বৃষ্টি এলে ভিজতে চেয়েছি
তোমার সাথে যেকোনো ঋতুতে বৃষ্টি এলে
শালিকের পাখার মতো জবুথবু হয়ে
অথচ আমি ভিজেছি ইউক্যালিপটাস গাছের
বাকলের মতো আর আমাকে শুকিয়েছে
বর্ষার তীব্র রোদ আর চুলার জল্লাদ আগুনে
আমি হয়েছি কুরবানির গোশত রান্নার খড়ি;
আমি কী তাই হতে চেয়েছি?
আমি যা হতে চেয়েছি তা কী হতে পেরেছি?
আমি এখনো ডরাই ডিপতলা যেতে
আমি এখনো ট্রেনে চড়িনি
প্রেমে পড়েছি, ভালোবাসি বলেছি অথচ আমাকে
ভালোবাসি বলেনি ফুলের মতো প্রেমিকারা
অথচ বাতাসে বহিছে প্রেম
অথচ চিৎকার গিলতে গিলতে আয়নার সামনে দাঁড়ালে
হুট করে মনে নিজের কপালে চুমু খাই
পারিনে, বলতে ইচ্ছে হয়, তো ফের আও মুঝকো রোলাও...
কুকুরকে বলেছি
কোথায় যে যাও পাখি
নয় বছর পরে একদিন
লালনের গানের সাথে ঠোঁট মেলাও
তারপর, ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই;
সেই হিসেবে বলতে পারো,
বিয়েটা করে নাও...
অথচ আমি ন্যাপথলিনের ঘ্রাণ নাকে নিয়ে
বুঁদ হয়ে থাকি তবু যেন লিশা হইলো না
চোখজুড়ে ঘুমেরঘুঘু ডাকে
চোখ বুজি আর দেখি, পুণ্ড্রনগরীর বাসরসজ্জায় তুমি বেহুলা আর আমি লখিন্দর
হায় হায়! দুঃস্বপ্ন দেখেছি আজ রাতে
জানালা খুলেছি কখন টের পাইনি, টের পাইনি আব্বার কবরের ঘ্রাণ তছনছ করেছে আমার বুক;
মেহগনিফল মাটিতে পড়তেই
যেমন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, তেমনি
সারারাতদিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকি বিছানায়—
অসংখ্য আফসোস কান্ধে উঠে যায়; কাল কিয়ামত
টাইগারকে বলেছি তবু, বন্ধু ঈদ মোবারক।
সবুজ হাওয়ায় কাফনের সংকেত
সবুজ হাওয়ায় কাফনের সংকেত দেখে
ভেবেছিলাম আকাশ হব
পরে
ভেবে দেখলাম,
পৃথিবীর সব মানুষ
আমার দিকেই ছুঁড়ে দেবে
সমস্ত দীর্ঘশ্বাস।
জোড়া ফিঙে মরে যাবে
দীর্ঘশ্বাসের বিষে;
মেনে নিতে পারব না—
যদিও আমি কাঁদলে ভিজে যাবে
আব্বার কবর, মা ও নানির শাড়ি
সেজন্য জবুথবু হয়ে
একবার ভাবলাম, ওভারব্রিজের উপর থেকে
লাফ দিয়ে দেই পাথর লোড দেয়া
দশচাকা ট্রাকের সামনে;
আমার মাথা থেঁতলে যাক
হৃদপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাক
যেহেতু অভিনয় করি
আমার হাসি অতোটাও মধুর লাগেনি কারো
কান্নার রোল আমাকে দিয়ে হয় না
আমাকে দিয়ে হয় না একটা গোলাপ
প্রেমিকার হাতে তুলে দেয়া
উপরে উপরে আমি একদম ভীতু
ভেতরে ভেতরে চরম বিপর্যস্থ এক মানুষ
নিমিষেই শেষ হয়ে যাব, অথচ
কাঁচি দিয়ে হাত কাটলে
এখনো দুবলোঘাস চাবায়ে ক্ষততে লাগাই,
সুপারির মরা পাতা পড়ে থাকা দেখলে
এখনো আনন্দ লাগে, মনে হয়
আমি বসে থাকি আর কেউ একজন
আমাকে টেনে নিয়ে যাক,
সুক্কু খাই, অসুখের ভিতর
সুখে বাঁচি আর ভাবি
খুব বেশি জ্বর না এলে কালোজিরাতেই
সেরে যায় আমার অসুখ
অন্তরের অনন্ত অন্ধকার তাড়াতে
বাঁশবনের জোনাকি ও
রাতের রেলওয়ে জংশনই যথেষ্ট
তখন, বকুলের মালা শুকাবে
রেখে দেবো তার সুরভী আর
তালফুল ঝরা মাটিতে নখের আঁচড়
লেগে থাকবে যেন
আমি সবুজ হাওয়ায় কাফনের সংকেত দেখে
ভুলে যাব একদিন
ভেবেছিলাম আকাশ হব
পরে
ভেবে দেখলাম,
পৃথিবীর সব মানুষ
আমার দিকেই ছুঁড়ে দেবে
সমস্ত দীর্ঘশ্বাস।
কতকিছু হয়, খালি আমাদের দেখা হয় না; কথা হয়, শোনা যায় না— এ এক ভার্চুয়াল দুর্যোগ, কপালের কানকাটা...দুঃখের অধিক দুর্ভাগ্য;
একদিন মোবাইলে কল দিলে ধইরো। ভালোমন্দ জিগাইলে উত্তর দিয়ো। মনে কইরো না, কে না কে! কথা কমো না—এমন মনোভাব আইনো না, মানুষ মনে কইরো, ভাইবো যে একদিন চিনতাম এমন মানুষ ধুলার মতোন আশেপাশে উড়ত, হাসতো বৈশাখের রোদ আর বাতাসে বাতাসে আঁকতো আমারি পুতুলমুখ। একদিন তারে ভালোবাসি কওনাই, একদিন বিকালে কান্নাঝরা তোমার দুচোখ দেখেছিল সে আর বলেছিল, মোবাইলে কল দিয়ো আর তুমি তারে বলেছিলে, এতোদিন কোথায় ছিলে? এতোদূর যেতে হবে নাকো; দম আটকে যাবে খালি একদিন কল দিলে ধইরো সেই ষোলো সালের পরিচিত নাম্বার, জিরো ওয়ান সেভেন এইট সিক্স...তারপরেরগুলা তো জানোই। যদি আমার বন্ধু কথা কয়, যদি কয় আলম সাধুরে চিনেন, না কইয়ো না, চিনতাম বইলো, না হলে বন্ধু আমার মনখারাপ করবে, আমি চাই না আমার কথা রাখতে যায়া বন্ধুর মনখারাপ হোক। বেশিকিছু না কয়া যদি আমার বন্ধু কয়, আলম সাধু মরে গেছে; হাত থেকে মোবাইল ফেলে দিয়ো না জানি, ফেলে দিলেই কিছু অর্থদণ্ড যাবে, আমি কখনোই চাই না তোমার কোনো ক্ষতি হোক। তা আমার লাশটারে দেখতে আসবা তো মৌ-পাখি?
নিজের কপালে নিজে
মনে হয় নিজের কপালে নিজেই চুমু খাই
পারিনে, বলতে ইচ্ছে হয় তুমি এসে চুমু খেয়ে যাও
নয়তো ঈদ ছাড়াও কুরবানি হয়ে যাব
যেকোনো দিন, গোবর শুকালে যেমন ঘুটো হয়ে যায়
আমি তো তেমন হতে চাইনি, চিরকাল ধরে
বৃষ্টি এলে ভিজতে চেয়েছি
তোমার সাথে যেকোনো ঋতুতে বৃষ্টি এলে
শালিকের পাখার মতো জবুথবু হয়ে
অথচ আমি ভিজেছি ইউক্যালিপটাস গাছের
বাকলের মতো আর আমাকে শুকিয়েছে
বর্ষার তীব্র রোদ আর চুলার জল্লাদ আগুনে
আমি হয়েছি কুরবানির গোশত রান্নার খড়ি;
আমি কী তাই হতে চেয়েছি?
আমি যা হতে চেয়েছি তা কী হতে পেরেছি?
আমি এখনো ডরাই ডিপতলা যেতে
আমি এখনো ট্রেনে চড়িনি
প্রেমে পড়েছি, ভালোবাসি বলেছি অথচ আমাকে
ভালোবাসি বলেনি ফুলের মতো প্রেমিকারা
অথচ বাতাসে বহিছে প্রেম
অথচ চিৎকার গিলতে গিলতে আয়নার সামনে দাঁড়ালে
হুট করে মনে নিজের কপালে চুমু খাই
পারিনে, বলতে ইচ্ছে হয়, তো ফের আও মুঝকো রোলাও...
কুকুরকে বলেছি
কোথায় যে যাও পাখি
নয় বছর পরে একদিন
লালনের গানের সাথে ঠোঁট মেলাও
তারপর, ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই;
সেই হিসেবে বলতে পারো,
বিয়েটা করে নাও...
অথচ আমি ন্যাপথলিনের ঘ্রাণ নাকে নিয়ে
বুঁদ হয়ে থাকি তবু যেন লিশা হইলো না
চোখজুড়ে ঘুমেরঘুঘু ডাকে
চোখ বুজি আর দেখি, পুণ্ড্রনগরীর বাসরসজ্জায় তুমি বেহুলা আর আমি লখিন্দর
হায় হায়! দুঃস্বপ্ন দেখেছি আজ রাতে
জানালা খুলেছি কখন টের পাইনি, টের পাইনি আব্বার কবরের ঘ্রাণ তছনছ করেছে আমার বুক;
মেহগনিফল মাটিতে পড়তেই
যেমন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, তেমনি
সারারাতদিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকি বিছানায়—
অসংখ্য আফসোস কান্ধে উঠে যায়; কাল কিয়ামত
টাইগারকে বলেছি তবু, বন্ধু ঈদ মোবারক।
সবুজ হাওয়ায় কাফনের সংকেত
সবুজ হাওয়ায় কাফনের সংকেত দেখে
ভেবেছিলাম আকাশ হব
পরে
ভেবে দেখলাম,
পৃথিবীর সব মানুষ
আমার দিকেই ছুঁড়ে দেবে
সমস্ত দীর্ঘশ্বাস।
জোড়া ফিঙে মরে যাবে
দীর্ঘশ্বাসের বিষে;
মেনে নিতে পারব না—
যদিও আমি কাঁদলে ভিজে যাবে
আব্বার কবর, মা ও নানির শাড়ি
সেজন্য জবুথবু হয়ে
একবার ভাবলাম, ওভারব্রিজের উপর থেকে
লাফ দিয়ে দেই পাথর লোড দেয়া
দশচাকা ট্রাকের সামনে;
আমার মাথা থেঁতলে যাক
হৃদপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাক
যেহেতু অভিনয় করি
আমার হাসি অতোটাও মধুর লাগেনি কারো
কান্নার রোল আমাকে দিয়ে হয় না
আমাকে দিয়ে হয় না একটা গোলাপ
প্রেমিকার হাতে তুলে দেয়া
উপরে উপরে আমি একদম ভীতু
ভেতরে ভেতরে চরম বিপর্যস্থ এক মানুষ
নিমিষেই শেষ হয়ে যাব, অথচ
কাঁচি দিয়ে হাত কাটলে
এখনো দুবলোঘাস চাবায়ে ক্ষততে লাগাই,
সুপারির মরা পাতা পড়ে থাকা দেখলে
এখনো আনন্দ লাগে, মনে হয়
আমি বসে থাকি আর কেউ একজন
আমাকে টেনে নিয়ে যাক,
সুক্কু খাই, অসুখের ভিতর
সুখে বাঁচি আর ভাবি
খুব বেশি জ্বর না এলে কালোজিরাতেই
সেরে যায় আমার অসুখ
অন্তরের অনন্ত অন্ধকার তাড়াতে
বাঁশবনের জোনাকি ও
রাতের রেলওয়ে জংশনই যথেষ্ট
তখন, বকুলের মালা শুকাবে
রেখে দেবো তার সুরভী আর
তালফুল ঝরা মাটিতে নখের আঁচড়
লেগে থাকবে যেন
আমি সবুজ হাওয়ায় কাফনের সংকেত দেখে
ভুলে যাব একদিন
ভেবেছিলাম আকাশ হব
পরে
ভেবে দেখলাম,
পৃথিবীর সব মানুষ
আমার দিকেই ছুঁড়ে দেবে
সমস্ত দীর্ঘশ্বাস।
ধুলোঘামঅবসাদ
হেলাল হাফিজের ভাঙাচোরা হৃদয়টাকে রিপু করে দিয়ো খোদা...তারপর তাঁর থেকে শুনে নিয়ো বাংলা কবিতা। যদি সে তখনো হেলেন আর নিঃসঙ্গতার কথা বলে, যদি সে না রাখে অভিযোগ, এই মাখন জ্যোৎস্নার পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যাবে তেরো ডিসেম্বর আর শীতকালের ভাঁপাপিঠার উষ্ণতা, বুঝে নিয়ো আজ তাঁর অবসর। তুমি সব জানো তবুও হাঁসের নরম শাদা পালকের মতো কাফন গায়ে জড়িয়ে একদিন আমিও দাঁড়ায় পড়ব তোমার সামনে...আল্লাহ গো, আমার কাঁধে তোমার কুদরতি হাত রেখে ভরসা দিয়ো যেন একদিন আমিও বলতে পারি নদীর কথা যে ভেঙে নিয়ে গেছে দাদার কবর আর আব্বার গায়ের ধুলোঘামঅবসাদ। একদিন মেসেঞ্জারে হেলাল হাফিজ আমাকে 'ভালোবাসি' বলেছিল অথচ আমি তাঁকে বলতে পারিনাই; ভালোবাসি বলতে পারিনাই সৌরভ মাহমুদ, পার্থ মল্লিক আর আক্তারুজ্জামান লেবুকে...আল্লাহ গো, পাঞ্জাবি পইরা বসে আছি কেটে রাখা শুকনো নাড়ার ভিতর, এই উশুম ভালো লাগে না; অনন্ত সন্ধ্যাতারা আমাকে রাত একটায় রাস্তার পাশে কুকুরছানার কিউকিউ মনে করায় দেয়। মনে করায় দেয় প্রিয় বন্ধুর দুঃখ। তবু সব ছেড়ে বাড়ি ফিরি কৈমাছের মতো পথ হেঁটে, বাংলা ভাষায়...
প্রাক্তন
কার্তিকের বিস্কুটগুড়ো সন্ধ্যায়
কুয়াশাপথ ডিঙিয়ে
পাখিসব ফিরতেছে ঘরে আর
তুমি চাঁদ জ্বলে ওঠো
কিছুই তো এখন
দেখি না
ফিঙের
চোখে;

0 মন্তব্যসমূহ