কবিতার বৈঠক: সাজ্জাদ শাকিলের কয়েকটি কবিতা


ব্লোজবের ইন্টারফেসে গণতান্ত্রিক চোদন

১.
মজলুম তুমি জালিম হইয়া গেছো
জালিম হইয়া গেছে মজলুম—
চক্রবীণে উভয় ফ্যাসিস্ট
তুমি আমি নীলবিষে ফকির
রাতের গলিঘুপচিতে কুকুরের হাহাকার
যেমন চুপচাপ গিইলা ফেলে পুরানো আইন
ঠিক তেমনি তোমার ভাঙা কণ্ঠে
বুকের ভিত্রে কাঁইপা ওঠে রাষ্ট্রের নোনা ধুলা
সেই ধুলার মইধ্যে আমরা হাঁইটা চলি—
সাধারণ দুই প্রান্তিক মানুষ
শীতের ভেজা হাওয়ায় টং দোকানের চায়ের কাপে
বাষ্প উঠতে থাকে, ঠান্ডা পইড়া যায় স্লোগানে
মাটি থেইকা মাথা তুইলা দেখি—
যে হাত আমারে ধাক্কা দেয়
সেই হাত তোমারেও দেয় দেখি!
শুধু ছায়ার ভঙ্গি আলাদা
বেদনার রঙ ঠিক একই, কালচে বিষন্ন স্বর!
আমরা জানি—
মজলুমের মুখোশে এখন জালিমেরা
জালিমের মুখোশে মজলুমেরা
এই খোলস বদলের খেলায়
আমাগো শরীরের ঘামই কেবল সইত্য।
নদীর ধারে বইসা ভাবি
যদিও নদী মইরা ভূত
কে কারে বাঁচাইবো আইজ?
বাঁচানোরও এখন আলাদা ট্যাক্স
আলাদা শুল্ক, আলাদা মৃত্যু।
তবু তুমি, আমি—
বুকের গোপন ক্ষত লুকাইয়া
নীলবিষে বিষাক্রান্ত ভূমি
কোনো এক অদ্ভুত ন্যায়বোধের অপেক্ষায় থাকি—
যা আইবো না, আবার আসার মতো ভান করবো
শহরের ড্রেনে ভাসা চাঁদের মতো হায়...


২.
হে শীতের মশা
তুমিতো জানোই না
কীভাবে কামড়াতে হয়! 
নভেম্বরের বিষাদী শরীরে
লেপ্টে আছে মৌলিক বেদনা
অথচ তুমি বাজিয়ে যাচ্ছো
কুয়াশামুখর পিয়ানো—
আমার দহন তলে
শীতের শীৎকার
গীর্জার জানালা বেয়ে
উড়ে যাচ্ছে কে?
একটা সরু রাস্তার মাঝে 
সঙ্গমোদ্যত কুকুররা
গেয়ে যাচ্ছে তোমার গান...

৩.
জন্মের সময় আমি কানছিলাম
অনুভবও হইতো করছিলাম
দুই চোখ বাইয়া গড়াইয়া পড়ছিলো অশ্রুবিন্দু
ঐ থিকা আইজ পর্যন্ত আমি আমার ভিত্রে নাই
মাইনষের অব্যক্ত যন্ত্রণা হইয়া উঠছে
আমার কবিতার ভাষা
এমনকী আমার ব্রেস্টের ভাষাও
আমার গোশত থিকা জন্ম নেয়া ছোট্ট লোমেরা
শিহরিত হয়, কান্দে নীরবে
আহারে আমার মনটা
করুণার সীমা ছাইড়া
তোমার কাছে লেপ্টাইয়া আছে
তুমি বাড়া, ঘর পলাতক হৃদয়ের মতো
গায়েব হইয়া যাও, কই যাও সোনা?
আমিতো নিষ্ঠুর আলোর দিকে চাইয়া থাকি
য্যান তুমি আন্ধার নামাইয়া আনতে পারো
এই আন্ধারই আমগো চিরকালীন প্রসূতি নিদান!
তোমার ক্লিটোরিসের অনন্ত তিয়াসায় ফাঁকা লাগে
অথচ আজন্ম আমি আমার চোক্ষের বন্ধু হইয়া আছি…

৪.
হৃদয় কাতারে দাঁড়িয়ে
কামের ইবাদত করি
শরীর জুড়ে জেগে ওঠে
নির্লজ্জ এক বিদেহী সুর—
নেকাব খুলে ফেলে রেখেছি
পূণ্যের ভার বইতে পারি না আর
বুকের ভেতর পাপের মসজিদে
জ্বলছে আগুনের মিনার
নজর পাথরের মতো স্থির
তবু রক্তের ভেতর বয়ে চলে
সিনানের নদী—
তাহাজ্জুদের রাতে 
শরীরের মেহরাবে জ্বলে উঠে লাল আগুন
যার ত্বকের আয়াতে লেখা আছে
গুনাহর ভাষা—
আমি ঈমানের কাফন খুলে
সেবন করি কামের মদিরা!
এই কাম, এই লালসা—
সবকিছু পুড়িয়ে দিচ্ছে আমাকেই
আমার রুহ আর জেগে ওঠে না
শুধু শরীরটা দাঁড়িয়ে থাকে
একটা অভিশপ্ত মিনারের মতো
যেখানে আজান নেই
শুধু ক্রমাগত বাজে
কামের শঙ্খধ্বনি…

৫.
চুদিত সকালের পূর্বে
মনে পড়ে যায় তোমার কথা—
আমার ঘিয়া-রঙা পাঞ্জাবি 
ঢুকে গিয়েছিল তোমার নীলরঙা ব্লাউজের নীচে
আজও হাসি, ঠোঁট উপচে পড়ে 
তোমার স্তনের ডগায় মুখ ঢুকিয়ে
লাগাতার চুষতে চুষতে ঢুকে পড়ি
আজন্ম লালিত শোষকের শ্বাসে—
যোনিতে লেগে থাকা আঁশটে তরল চেটে
বিভেদ শ্রেণীরা পয়গাম নিয়ে আসে ঘামের
আমার বাবা ছিল এক কঠিন শূয়রের বাচ্চাআ
মৃত মালের খোঁজে আজও প্রকৃত প্রস্তাবে রাষ্ট্রনেতা
আমি বাঁড়া— 
অ্যান্টি-ন্যাশন চোদাতে চোদাতে 
জিভ আর দাঁত ঠেসে তোমার গুদে ঘুমিয়ে পড়ি…

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ