আজ মে দিবস।
ফুলে ঢাকা মঞ্চে বক্তৃতা জ্বলে—
যেন হাওয়ার সামনে ভেসে চলা কাগজের পাতায় লেখা।
নেতা বলেন, “শ্রমিকই সমাজের রূপকার!”
আর পাশের ব্যানারে—
খুঁটিতে বাঁধা দগ্ধ গৃহশ্রমিকের চোখে লেখা—
"মুক্তি চাই—চাই না নেতার জিভে মাখানো মৃগেলের স্বপ্নের বিষবাষ্প।"
শুভেচ্ছা জানাই—
গিরি-পথে ছেঁড়া পাদুকার ক্লান্ত দৌড়,
বিভাজিত শাসকের শত প্রলোভন,
ফাঁকা কলকারখানায় আরেক মুঠো শ্রমের খোঁজে
বিলি করতে করতে ভেজা থলি, মলিন হাত,
গলিত নথির পৃষ্ঠে ধুলোর দাগ,
ব্রিজের নীচে আটকে থাকা পায়ে চলা পুরনো রিকশার চাকা।
শুভেচ্ছা জানাই—
রাতজাগা গার্মেন্টস কর্মীর নিঃশ্বাসে,
খুলির অন্ধকারে শ্বাস না পাওয়া শিলামাঝির তর্জনীতে,
ফাঁক-ফাঁক করে ফুটে ওঠা দিনমজুরের কষ্টে,
কৃষকের হাতে বাঁধা আধাপোড়া মাটির তাপের তিক্ততায়।
এরা সবাই জানে—
আজকের এই ফুল, এই মঞ্চ, এই ব্যানার
তাদের অবহেলা, তাদের ভাঙা শরীর, তাদের অশ্রু,
তাদের বোধ, তাদের মানবিকতা থেকে তৈরি।
তবু যখন দিনের শেষে মজুরি হারিয়ে যায়—
তাদের কোনো নোটিশ নেই,
চোখে পড়ে না কোনো রঙিন খবর,
খালি থাকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ফাঁকা কথা।
তাই আজ—
শোক নয়, করাল উচ্চারণ—
পোড়া ব্যানারে লেখা থাকুক:
“আমরা আসছি, সভ্যতা!
তোমার নাটকের পর্দা ছিঁড়ে,
মঞ্চ ধসে ফেলে,
বক্তৃতার কণ্ঠে গলা চেপে ধরতে!
ঘামে গড়া এই সভ্যতায়
আমরাই লিখবো নতুন আইন—
যেখানে বেতন আটকে থাকলে
আগুন খাবে কারখানা,
আর একটাও থাপ্পড় যদি পড়ে গৃহশ্রমিকের গালে—
জ্বলবে শহরের মুখ।”

0 মন্তব্যসমূহ