মধ্যরাতের মিশন | মিনহাজ রাফি


 

আসিফ আর তানিয়া খালাতো ভাই-বোন। আমাদের সমাজে খালাতো ভাই-বোনের প্রেম নিয়ে নানা রকম রসালো গল্প আছে, তাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ছোটবেলা থেকেই দুজনের চুটিয়ে প্রেম। তবে সমস্যা একটাই, তানিয়ার বাবা, অর্থাৎ আসিফের হবু শ্বশুরমশাই অত্যন্ত কড়া মেজাজের মানুষ। মিলিটারির প্রাক্তন অফিসার, সারাক্ষণ এমন গম্ভীর হয়ে থাকেন যে বাসার সবাই তাকে বাঘের মতো ভয় পায়। তানিয়াও বাবার সামনে আসিফের সাথে টু শব্দ করার সাহস পায় না।

​তো, গত উইকএন্ডে আসিফ গেছে খালাতো বোনের বাসায়। রাতে সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যে যার রুমে ঘুমাতে গেল। মাঝরাতে আসিফের হঠাৎ পানির তৃষ্ণা পাওয়ায় সে রুম থেকে বের হয়ে কিচেনের দিকে যাচ্ছিল।
​ঠিক তখনই ড্রয়িং রুমের অন্ধকার কোণ থেকে কেউ একজন ফিসফিস করে তার নাম ধরে ডাকল, "আসিফ... এই আসিফ, এদিকে এসো..."

​আসিফ চমকে উঠে তাকিয়ে দেখে, তানিয়া অন্ধকারের মধ্যে একটা চোরকুঠুরির মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। জানলার আলোয় দেখা যাচ্ছে তার চোখে-মুখে এক অদ্ভুত উত্তেজনা আর ভয়। সে আসিফের হাত শক্ত করে ধরে টেনে একদম ভেতরের একটা অন্ধকার স্টোররুমে নিয়ে গেল।

​সেখানে তানিয়া আসিফকে একদম দেয়ালের সাথে চেপে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল, "বাবা-মা পাশের রুমে ঘুমাচ্ছে। একটু শব্দ হলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে! জলদি করো... কেউ যেন টের না পায়। আমি জাস্ট আর সহ্য করতে পারছি না, খুব উত্তেজিত হয়ে আছি... প্লিজ, জলদি!"

​আসিফের তো বুক ধড়ফড় শুরু হয়ে গেছে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সে আমতা আমতা করে বলল, "মানে? তানিয়া... এখানে? এই মাঝরাতে? খালুজান যদি টের পায়, আমাকে আস্ত রাখবে না! পিঠের চামড়া তুলে নেবে!"
​তানিয়া আসিফের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলল, "উঁহু, কোনো কথা নয়। আমি জানি তুমি অনেকদিন ধরে এই সুযোগটার খোঁজে ছিলে। আজ বাবা ঘুমানোর আগে চাবির গোছাটা ডাইনিং টেবিলে ভুলে ফেলে গেছে। আমি ওটা লুকিয়ে নিয়ে এসেছি।"

​এই বলে তানিয়া তার নাইটি-র পকেট থেকে চাবির গোছাটা বের করে আসিফের হাতে দিল। তারপর স্টোররুমের কোণায় রাখা বিশাল রাজকীয় সেগুন কাঠের আলমারিটার দিকে ইশারা করে চোখ টিপে বলল, "যাও, এবার তোমার মনের আশা পূরণ করো। যা করার জলদি করো, কেউ যেন টের না পায়!"

​ব্যস! এতক্ষণ ভয়ে কাঁপতে থাকা আসিফের চোখ এবার চকচক করে উঠল। সে আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না।

আসিফ ​ধীরে ধীরে চাবি দিয়ে আলমারির ভেতরের গোপন লকারটা খুলল। তারপর সেখান থেকে হবু শ্বশুরমশাইয়ের অত্যন্ত গোপনে লুকিয়ে রাখা '১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের অরিজিনাল ম্যারাডোনার সাইন করা জার্সি আর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচের সেই মহামূল্যবান টিকিট বের করে আনল!

​জিনিসগুলো পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরে সে আলমারিটা আবার লক করল। তারপর তানিয়াকে একটা ফ্লাইং কিস দিয়ে বিড়ালের মতো নিঃশব্দে পা ফেলে সোজা নিজের রুমে চলে গেল।

​রুমে ঢুকে দরজা লক করে সে বিছানায় ধপাস করে বসল। এরপর কাঁপতে কাঁপতে জার্সি আর টিকিটটা লুকিয়ে রেখে নিজের ফোনের লক স্ক্রিন অন করে ওয়ালপেপারে থাকা মেসির ছবিতে একের পর এক চুমু খেতে খেতে বলতে লাগল, "আহ্ মাই লিওনেল মেসি! ফাইনালি আমি টিকিটটা পেয়ে গেলাম, এইবার তোমাকে সামনাসামনি দেখব...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ